Thursday, May 17, 2018

Bhutan Trip May 2018 Via India

ভুটান। বজ্র ড্রাগনের দেশ। হিমালায়ান রেঞ্জে অবস্থিত ছোট্ট এই দেশটা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম পাহাড়ি এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। একটি বিশেষ কারণে গত ৩০ এপ্রিল ইন্ডিয়া হয়ে ভুটানে যাওয়ার একটি সুযোগ পেয়েছিলাম আমি, যা কিনা অক্ষরে অক্ষরে লুফে নিয়েছি নিজের মতই... এবার একটু সেদিকে নজরসহ বর্ণনা করবো। কিঞ্চিত বড় হতে পারে এই গল্প, কিন্তু কিছু করার নেই 
ইন্ডিয়া ট্রানজিট ভিসা দরকার হবে প্রথমে। ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম সুন্দরভাবে এবং সঠিকভাবে পূরণ করে ভিসার জন্য সাবমিট করে দেবেন উইথ যাওয়া এবং আসার টিকেট। ট্রানজিট ভিসার জন্য সিরিয়াল কম। আপনার খুব বেশি সময় নষ্ট হবে না। পোর্ট দিতে পারেন চেংরাবান্ধা - জয়গাঁ। ট্রাভেল ট্যাক্স ঢাকা থেকে দিয়ে যাবেন, এতে করে বর্ডারে আপনার সময় বাঁচবে।
বুড়িমারী হয়ে চেংরাবান্ধা দিয়ে এন্ট্রি করে জয়গাঁ পৌঁছে এক্সিট করে ভুটানে ফুয়েন্টশোলিংয়ে এন্ট্রি করতে হবে এবং ভিসা নিতে হবে। অন এরাইভাল, সো নো প্রব্লেম। জাস্ট এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং হোটেল বুকিঙয়ের পেপার সাবমিট করতে হবে। ব্যস। হয়ে গেল!
আমরা গিয়েছিলাম পিঙ্কি পরিবহণ নামে একটি বাসে। নামটা পিকিউলিয়ার হলেও সার্ভিস বেশ ভালো। একদম নতুন এসি থ্রি সিটার বাস। ১১০০ টাকা ভাড়া পার হেড। বুড়িমারীতে ওদের কাউন্টারে ২৫০ টাকা পার হেড দিয়ে দিলে ওরা প্রসেসিঙয়ে হেল্প করবে আপনাকে। বাংলাদেশ সাইডে ২৫০ টাকা প্রতিজন এবং ইন্ডিয়া সাইডে ১০০ টাকা প্রতিজন। হ্যাসেল কম, সময় নষ্ট হবে কম। সাথে থাকা ডলার চাইলে চেংরাবান্ধা পোর্টে এক্সচেঞ্জ করে নিতে পারেন। রেট বেশ ভালোই থাকে।
আমরা লুংটেন ওয়াংডি নামে এক ভুটানি ট্রাভেল গাইড + ড্রাইভারের সাথে কন্টাক্ট করে নিয়েছিলাম। ও আমাদেরকে চেংরাবান্ধা পোর্ট থেকে রিসিভ করে জয়গাঁ হয়ে ভুটানে নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের সাথে পুরো ট্রিপে ছিল। এবং আবার ফেরার সময় জয়গাঁ হয়ে চেংরাবান্ধা পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল। প্রকৃত পেশাদার এবং আসলেই ভালো একজন মানুষ এই লুংটেন ওয়াংডি। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করা একজন ভুটানি নাগরিকও সে। বাংলাদেশকে নিজের সেকেন্ড হোম বলে ও। চাইলে কন্টাক্ট করে রাখতে পারেন ওর সাথে। ও যদি আপনার সাথে থাকে তো আপনাকে বাকি আর কোন কিছুর চিন্তা করতে হবে না দ্যাটস ফর সিউর। ওর ফেসবুক আইডি লিঙ্ক - https://www.facebook.com/lungten.wangdi.77?ref=br_rs
থিম্পু রাজধানী শহর। ছোট্ট, ছিমছাম। পরিষ্কার। নিয়মতান্ত্রিক। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হওয়া যায় না। শান্ত একটা শহর। চারদিকে পাহাড় ঘেরা এই শহরে হেটে ঘুরে বেড়াতে পারেন।
বুদ্ধা স্পট। থিম্পুর কাছেই এক পাহাড়ের ঢালে বিশাল এক বুদ্ধ মূর্তি। দেখলে মনে হয় বুদ্ধ পুরো শহরকে তার নজরে রেখেছেন।
১২ শতাব্দীর এক প্রাচীন মন্দির। বাচ্চা জন্ম নেবার পর ভুটানিরা এই মন্দিরে বাচ্চাদেরকে নিয়ে আসেন আশীর্বাদের জন্য।
কিংস প্যালেস। পার্লামেন্ট হাউজের সাথেই লাগানো ছোট্ট একটা বাড়ি। ভুটানের রাজাকে ভুটানিরা এতটাই সম্মান করেন যে রাজার বাড়ির দিকে আঙ্গুলও তোলেন না।
দোচলা পাস। পুনাখার দিকে যাওয়ার পথে মেঘছোঁয়া এক মেমোরিয়াল। অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা।
পুনাখা। আরেক ছোট্ট শহর। র‍্যাফটিং করতে পারেন পুনাখা নদীতে। বোট প্রতি ৮ হাজার রুপি। এক বোটে ৮ জন উঠতে পারেন। তেমন রিস্কি না। জাস্ট সাহস এবং ওরা যেভাবে বলে সেভাবে কাজ করলে আপনার এঞ্জয় করা কেউ ঠেকাতে পারবে না।
সাস্পেনশন ব্রিজ, পুনাখা জং। অসম্ভব সুন্দর পরিবেশ। এবং পরিষ্কার।
পারোতে ভুটানের প্রধান আকর্ষণ টাইগার নেস্ট না দেখে আসাটা জাস্ট বোকামি। চাইলে পুরো রাস্তা ট্রেকিং করতে পারেন। আগের এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে পুরো ট্রেকিং না করাটা বেটার। ঘোড়া নিতে পারেন হাফ ওয়ে পর্যন্ত। ৫০০ রুপি প্রতিজন। পুরো ট্রেকিংয়ে উঠতে সময় লাগবে ঘণ্টা তিনেক আর নামতে ঘণ্টা দুয়েক। টাইগার নেস্টের ভেতরে যেতে চাইলে ৫০০ রুপি করে টিকেট। মোবাইল, ক্যামেরা ভেতরে নিতে পারবেন না। লকার আছে, ওখানে রেখে যেতে হবে।
ফুয়েন্টশোলিং। বর্ডার এলাকা। পাশেই জয়গাঁর মত নোংরা একটা এলাকা। আর গেটের এইপারে ঝকঝকে, শান্ত, নিরিবিলি, নিয়মতান্ত্রিক একটা শহর। জাস্ট হেটে বেড়াতেও ভালো লাগবে এই অজানা অচেনা জায়গাটায়।
ভুটান বিশ্বের সবচেয়ে কম কার্বন এমিশন রেটওয়ালা দেশ। এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। তাই যেখানে সেখানে কাহিনী কাব্জাব করে নিজের পরিচয় দিয়ে আসবেন না। আইন কানুন মেনে চলবেন। কোথাও কোন অবস্থাতেই ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। ওরা বাংলাদেশীদের ভালোবাসে। ওদের সেই জায়গাটাকে রেস্পেক্ট করবেন।
এটা নির্ভর করে আপনার ট্রাভেল প্ল্যানের ওপর। আমাদের প্ল্যান ছিল প্রথমে থিম্পু, তারপর পুনাখা এবং পারো। এরমাঝে আমরা থিম্পুতে দুই রাত এবং পারোতে দুই রাত ছিলাম। পুনাখায় দিনে গিয়ে দিনেই ব্যাক করেছি। যে গাইডকে ঠিক করবেন, ওই আপনাকে হোটেল বুকিংয়ে হেল্প করবে। কিরকম হোটেলে থাকবেন সেটাও নির্ভর করে আপনার ওপর। আমরা থিম্পুতে ছিলাম দ্রোয়েলমা হোটেলে। থিম্পু ক্লক টাওয়ারের পাশেই। আর পারোতে ছিলাম শহর থেকে একটু দূরে টাউনভিউ রিসোর্টে।
ইন্ডিয়ান কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন প্রায় সব শহরেই। কিন্তু মনে রাখবেন, খাবারের দাম অনেক বেশি। কিছু কিছু প্লেসে অস্বাভাবিকভাবে বেশি। আলুর দম, আলু পরাটা, ভেজ থালি, চিকেন বিরিয়ানি, মোমো ট্রাই করতে পারেন। ওরা লবণ, ঝাল কম খায়। সো আপনি কেমন চাচ্ছেন সেটা বলে দেবেন।
আমাদের টোটাল বাজেট পড়েছে পার হেড প্রায় ২৫ হাজার। কারণ আমাদের সাথে সবসময় গাইড প্লাস গাড়ি, দুটোই ছিল।
ভুটানিরা একটু আরামপ্রিয়। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমায় এবং সকালে একটু দেরি করে ওঠে।
কোন কাজে ভুটানিদের তাড়া দেবেন না। এটা ওরা অসম্মান মনে করে।
ভালো ব্যবহার করবেন। ওরা ইন্ডিয়ানদের দেখতে পারে না জাস্ট বিকজ অভ বিহেভ।
পরিবেশ কোনভাবেই নোংরা করবেন না।



No comments:

Post a Comment