Saturday, June 23, 2018

হামহাম ঝরনা এবং লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট ট্রেকিং, জুন ২০১৮


হামহাম ঝরনা এবং লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট ট্রেকিং

প্রথমে আপনাকে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল। হানিফ, শ্যামলীসহ বেশ কিছু বাস এই রুটে চলাচল করে। সময় লাগবে ম্যাক্সিমাম ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, যদি না আপনার জ্যাম ভাগ্য খারাপ হয়।

শহরে নেমে চাইলে আমাদের মত করে উঠতে পারেন হোটেল মহসিন প্লাজায়। ২৫০০ টাকা পার নাইট রেটে এখানে পেয়ে যাবেন এসি ডাবল বেড রুম। অনায়াসেই ৪ জন থাকা যায়।

খাওয়াদাওয়া করতে পারেন কুটুমবাড়ি, পাঁচভাই এবং পানসী হোটেলে। প্রাইস রিজোনেবল। তবে অবশ্যই হাতে একটু টাইম নিয়ে আসবেন এসব হোটেলে। কারণ ভিড় থাকে প্রচণ্ড।

লাউয়াছড়া ৫ টার মধ্যে বন্ধ। তাই সিএনজি নিয়ে চলে যেতে পারেন। দরদাম করে নেয়াটা বাঞ্ছনীয়। চাইলে ২০ টাকা টিকেটে জাস্ট মেইন গেট দিয়ে ঢুকে বিখ্যাত রেল লাইনটা ঘুরে চলে আসতে পারেন। অথবা, ২০০ টাকার টিকেটে গাইডসহ এক ঘণ্টা লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্টে ট্রেকিং করতে পারেন। আমরা ট্রেকিংটাই করেছিলাম। অস্থির এক্সপেরিয়েন্স। জোক আছে অনেক, আগেই বলে রাখছি। আর বনের মধ্যে যত চুপচাপ থাকবেন তত বনের গভীরতা অনুভব করবেন, সিম্পল। বন্যপ্রাণী আছে প্রচুর। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনি ওদের বিরক্ত না করলে ওরাও আপনাকে বিরক্ত করবে না।

হামহাম যেতে চাইলে একদম সকাল সকাল রওনা হবেন। কমলগঞ্জ নামে একটা জায়গায় যেতে হবে আপনাকে। জায়গাটা বেশ দূরে। প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের রাস্তা। চাম্পারাই চা বাগানের ভেতর দিয়ে কলাবনে পৌঁছাবেন। সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন আবার জীপও নিতে পারেন। আপনার কম্ফরট। নাম এন্ট্রি করে, অতি সাধারণ হোটেলগুলোয় খাবারের অর্ডার করে তারপর শুরু করবেন ট্রেকিং। খাবারের অর্ডার না করলে আপনার লস। কারণ ওই এলাকায় আর কোন কিচ্ছু নেই।

ট্রেকিংয়ের ব্যাপার খুব সিম্পল। চাইলে লাঠি কিনে নিতে পারেন। মাত্র ৫ টাকা। গাইড নিতে পারেন ৩০০ টাকায়। পুরো ট্রেকিং শেষ করতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। টাফ এই ট্রেকিংয়ে হামহাম আপনার শারীরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। মনে রাখবেন, যদি নিজেকে ফিট মনে না করেন তো ডোন্ট ট্রাই দিস। প্রবল মানসিক জোর থাকলেই কেবল যেতে পারেন আপনি। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একটা পয়েন্টে এসে আমি ভেবেছিলাম যে কুইট করবো। কিন্তু আমার পার্টনারদের অসামান্য সাপোর্টে শেষপর্যন্ত হামহামে পৌছাই।
হামহামে যাওয়ার পথ মূলত দুটো। পাহাড়ি পথ এবং ঝিরি পথ। বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝিরিপথে কোথাও কোথাও পানির ঠাই পাওয়া যায় না বলে আমরা ওই পথ এড়িয়ে গেছি এবং বেছে নিয়েছি পাহাড়ি পথ। টোটাল প্রায় ৭ টা পাহাড় ক্রস করে এই পথে হামহাম ঝরনার একদম কাছাকাছি এক ঝিরিপথে নামতে পারবেন আপনি। কোথাও হাঁটু কোথাও বা কোমর পানি। পিছলা। সো সাবধানে।

হামহাম গহীন এলাকা। সো যাই কিছু নিয়ে যান সাথে করে, সাবধানে বহন করবেন।

এবং কোন অবস্থাতেই কোন এলাকা নোংরা করবেন না। ভিডিওকারী আরেফিন সোহাগ বেশ কিছু পলিথিনের ব্যাগ নিজের পকেটে করে নিয়ে এসে অন্যত্র ডাম্প করেছিল।

মাইন্ড ইট, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মত থাকতে না দিলে একদিন না একদিন তার প্রতিশোধের শিকার আমরা হবই হব।

Thursday, May 17, 2018

Marine Drive, Cox Bazar, April 2018

মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার টু টেকনাফ - শাহ্‌পরীর দ্বীপ।
বলা হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা হচ্ছে এটা। সর্বমোট ৯৬ কিমি দীর্ঘ এই রাস্তায় ঘুরে আসতে সময় লাগতে পারে ৩ ঘণ্টার মত। গত ৩১ মার্চ ২০১৮ তে আমরা ছয় জন কক্সবাজার কলাতলির ৯৯ গেস্ট হাউজের নিচের প্যাসিফিক ট্যুরস অ্যান্ড লজিস্টিকসের মান্না ভাইয়ের এরেঞ্জমেন্টে ৭৫০০ টাকা খরচায় পুরো মেরিন ড্রাইভ চক্কর দিয়েছিলাম। শাহ্‌পরীর দ্বীপের দিকে রাস্তার কাজ চলছে। এখন চাইলে যাওয়া যাবে সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত... এই পুরো চক্করের স্নিকপিক ভিডিও করেছিলাম ফোনের ক্যামেরায়। তাই একটু ঝাপসা লাগতে পারে। শেকিনেসও আছে। আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

মেরিন ড্রাইভ ভিডিও!  

নারায়ণগঞ্জ Trip January 2018



ঢাকার খুব কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। তাই বলে একে তুচ্ছার্থে দেখার কিছু নেই। খুব বেশি আশা না করলে এই জেলাতেও দেখার আছে অনেক কিছু। ৫ জানুয়ারি আমরা ৫-৬ জন গিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জ ঘুরতে। এবার ছোট্ট ডিটেইলসে জানাবো আমাদের অভিজ্ঞতা – 
#কিভাবে_যাবেন
গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের বাস পেয়ে যাবেন। শীতল, বন্ধন, উৎসব, বোরাকসহ বেশ কিছু বাস এই রুটে যাতায়াত করে। শীতল এবং বোরাকের এসি সার্ভিস আছে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫৫ টাকা। এই বাসগুলো ডিরেক্ট এবং সিটিং। সময় লাগবে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মত। নামিয়ে দেবে একদম নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে।
#কি_খাবেন
সকালে গেলে বিখ্যাত বোস কেবিনের নাস্তাটা ট্রাই করতে পারেন। স্টেশন রোডে অবস্থিত। বাসস্ট্যান্ড থেকে যেতে সময় লাগবে মিনিট ৭-১০। বোস কেবিনের ডিমের অমলেট মামলেট বিখ্যাত। সো মাস্ট ট্রাই। সাথে খাশির ঝোল নিতে পারেন। সবমিলিয়ে ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে ধুমধাম নাস্তা। সবজি ডালও আছে। চাইলে ওসবও ট্রাই করতে পারেন। 
ক্লাবের রাস্তায় অবস্থিত জগৎবন্ধুর মিষ্টি বিখ্যাত। কিন্তু সকাল সকাল না গেলে মিষ্টির শিরাও পাবেন না। গুঁড়ের চমচম ট্রাই করতে পারেন। দাম পড়বে কেজি প্রতি ৩৫০ টাকার মত। টাটকা, নরম এবং গরম। জাস্ট কোন কথা হবে না। 
মোগরাপাড়ার কলাপাতা রেস্টুরেন্টের কালাভুনা ট্রাই করতে পারেন দুপুরে। অস্থির। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ শহরের মাউরা হোটেলের কালাভুনা ট্রাই করতে পারেন। এটাও জোস।
#কি_দেখবেন
হাজীগঞ্জ দুর্গে যেতে পারেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০ মিনিটের রাস্তা। মেইন্টেইন করা হয়না ঠিক মত। এই দুর্গ থেকে মুন্সিগঞ্জ এবং লালবাগ কেল্লায় আসা যাওয়ার সুড়ঙ্গ তৈরি করা ছিল। অবশ্য কালক্রমে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব।
নদী পার হয়ে যেতে পারেন শাব্দি। সরিষাসহ বিভিন্ন ফুলের ক্ষেতে পরিপূর্ণ একটা শান্তসুনিবিড় এলাকা। অটো রিজার্ভ নেবে ১০০ টাকা। রাস্তা ভালো। গাছগাছালি ভরা এলাকা।
শাব্দি থেকে যেতে পারেন মোগরাপাড়া হয়ে সোনারগাঁও। লোকশিল্প জাদুঘর দেখে পানাম নগরী হয়ে আবার ফিরতে পারেন ঢাকা। জাদুঘরের টিকেট জনপ্রতি ৩০ টাকা। পানাম নগরীতে টিকেট জনপ্রতি ১৫ টাকা। সোনারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে পানাম নগরী পর্যন্ত অটো ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা। জাদুঘর পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। রিজার্ভ গেলে ৬০-১০০ টাকা।
রিকোয়েস্ট একটাই – কোন অবস্থাতেই জায়গাগুলো নোংরা করবেন না।
হ্যাপি ট্রাভেলিং

তেঁতুলিয়া - অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়া। শান্ত, সুনিবিড় ছোট্ট একটা জায়গা। কিন্তু অতিসাধারণ প্লাস অমায়িক মানুষজন আর সবুজ পরিবেশ এই উপজেলাকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা। গিয়েছিলাম ২৬ অক্টোবর ২০১৭ তে এবং ফিরেছি আজ ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তে। এক্সপেরিএন্সের আলোকেই এবার ডিটেইলসঃ
#যাবেন_কিভাবে
এই রুটে নাবিল পরিবহণ সবচেয়ে বিখ্যাত। তবে শ্যামলী, হানিফসহ আরও অনেক ভালো ভালো সার্ভিস আছে। নাবিল পরিবহণ আপনাকে নামিয়ে দেবে পঞ্চগড়ে। সেখান থেকে লোকাল বাসে করে তেঁতুলিয়া যেতে পারবেন। আমরা শ্যামলীতে ডিরেক্ট তেঁতুলিয়া পৌঁছেছিলাম। নন এসি, এসি দুই ধরণের সার্ভিসই আছে। নন এসির ভাড়া ৫৫০-৬৫০-র মধ্যে এবং এসির ভাড়া ১২০০-র মধ্যে। ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টার মধ্যে রওনা দিলে সকালে ৬-৭ টার মধ্যে তেঁতুলিয়া পৌছাতে পারবেন। রাস্তায় বেশ জ্যাম পোহাতে হবে। যেতে আমাদের সময় লেগেছিল ১৩ ঘণ্টা, আসতে ১৫ ঘণ্টা। সো ভেবে চিন্তে রওনা হওয়াটা আপনার জন্য বেটার।
#থাকবেন_কোথায়
সরকারি ডাকবাংলো আছে। চাইলে থাকতে পারবেন। আগে থেকে পারমিশন দরকার হবে। এছাড়াও তেঁতুলিয়া বাজারেও থাকার মত এভারেজ মানের হোটেল পাবেন। শান্ত, নির্ঝঞ্ঝাট এলাকা। সো যেখানেই থাকুন না কেন, কোলাহল তেমন একটা টের পাবেন না।
#খাবেন_কি
বাজারে কয়েকটা হোটেল আছে। বেশ ভালো মানের খাবার পাবেন এগুলোতে। দামও কম। বিভিন্ন টাইপ ভর্তা থেকে শুরু করে মাংস, সবই পাবেন। তবে ট্রাই করতে পারেন টাটকা মালাই চা আর টাটকা সাদা মিষ্টি। মিষ্টিটা পাবেন সকালে ১০ টা পর্যন্ত আর রাতে ৯ টার পর। অস্থির স্বাদ। রসূনের চপ খেতে পারেন। অদ্ভুত জিনিস। টেস্ট ভালো।
#ঘুরবেন_কোথায়
ভ্যান বা অটো ভাড়া করতে পারেন সারাদিনের জন্য। আমরা অটো ভাড়া করেছিলাম ৬০০ টাকায়।
মহানন্দা নদীর পাড়ে সরকারি ডাকবাংলো থেকে সবচেয়ে ভালো ভাবে দেখতে পাবেন তেঁতুলিয়ার মেইন আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা। এছাড়াও বাংলা টির (চা) কারখানার এলাকা থেকেও পরিষ্কার ওয়েদারে দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা।
যেতে পারেন বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে। শুক্রবার বন্ধ থাকে বিজনেস কার্যক্রম। তখন একদম ফাঁকা এলাকা পাবেন।
মহানন্দা নদী দেখতে পারেন। একদম মৃতপ্রায় অবস্থা, কিন্তু নদী তো নদীই। এই নদীর সাথেই ইন্ডিয়া বাংলাদেশ বর্ডার। সো সাবধান।
তেঁতুলিয়া ঢোকার একদম মুখে রাস্তার পাশেই ইন্ডিয়ান বর্ডারে অবস্থিত চা বাগানটা দেখতে পারেন। চা বাগানটা ইন্ডিয়ান টেরিটরিতে। সো সাবধান।
কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট দেখতে পারেন। ঘুরতে চাইলে পারমিশন নিয়ে বিকাল ৫ টার মধ্যে যেতে হবে। বিশাল এলাকা। ডাহুক নদীর দুই পাড়ের বেশ কিছুটা এলাকা নিয়ে এই এস্টেটের অবস্থান। ঝুম সবুজাভ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন এখানেও। আর একদম নীরবতা হচ্ছে বোনাস। চাইলে কিনতে পারেন এদের নিজস্ব চা। মিনি মীনা বাজার বলে একটা সুন্দর দোকান আছে এই এস্টেটের এলাকাতেই। ওখানেই সব পাবেন।
আদতে আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে রাস্তাঘাট। অক্টোবরের হালকা ঠাণ্ডায়, কুয়াশাঘেরা, গাছগাছালিতে ভরপুর একটা ছোট্ট জনপদের সরু রাস্তাগুলোয় চলতে চলতে আর অতিসাধারণ মানুষগুলোর সাথে রাস্তার পাশের ছোট্ট দোকানগুলোতে আড্ডা দিতে দিতেই দেখবেন সময় কেটে যাবে অনেকটা।
তো এবার আর দেরি না করে ঘুরে আসুন 

পেয়ারা বাগান, বরিশাল Trip July 2017

ভাসমান পেয়ারা বাজার, ভিম্রুলি, ঝালকাঠি
কিভাবে যাবেন?
হয় বরিশাল নয়ত বানারীপাড়ার লঞ্চে উঠবেন।
আমরা গিয়েছিলাম সুন্দরবন ১০ এ বরিশাল। সে অভিজ্ঞতাই বলছি।
ডেক ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এসি ১০০০ টাকা, নন এসি ৯০০ টাকা, ডাবল কেবিন এসি ২০০০ টাকা, নন এসি ১৮০০ টাকা।
বরিশাল নেমে অটো/মাহিন্দ্রা ধরে চলে যাবেন বানারীপাড়া লঞ্চ ঘাট। বোট ভাড়া করবেন। চলে যাবেন ভিম্রুলি।
পেয়ারা কেনা না কেনা অবশ্য আপনার ওপর নির্ভর করে। আমরা এক নৌকা পেয়ারা কিনেছিলাম ১০০০ টাকায় এবং প্রায় সাড়ে ৪ মণ পেয়ারা ছিল তাতে।

লালাখাল Trip April 2016

যেতে পারেন লালাখাল
সব জায়গায় পানি একদম সেই টার্কিশ ব্লু কালার নেই। ঘোলা ও ব্লু কালার মিক্সড হয়ে গেছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও সেই ব্লু কালারই পাবেন। ছবিটায় দেখতে পাচ্ছেন সেই পানি।
সিলেট জৈন্তাপুর বাজার থেকে ডানের দিকে লালাখাল রোডে ঢুকে পড়বেন। মোটামুটি ২০ মিনিটের মত লাগবে ঘাটে পৌছতে। ইঞ্জিন নৌকা আছে। ভাড়া ওদের অনুযায়ী ফিক্সড ৭০০ টাকা প্রতি ঘণ্টা। দামদর করে নিতে হবে।
যে জায়গাটার ছবি দেখতে পাচ্ছেন, একে বলে সুপারি বাগান। ঘাট থেকে মিনিট দশেকের মত গেলে হাতের বাম দিকে। পানি টার্কিশ ব্লু কালার। ফোনে তোলা ছবি। তাই রেজলুশন খারাপ। সে জন্য দুঃখিত।
চাইলে লালাখাল হয়ে জাফলং, জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যেতে পারেন। যেতে আসতে ঘণ্টা দুয়েকের মত লাগবে। খরচ ওই ঘণ্টা প্রতি যা দেয়া আছে...
সিলেট নন এসি বাস ভাড়া ৪৩০ টাকার মত।
যেতে হেভি জ্যামের মধ্যে না পড়লে ঘণ্টা পাঁচেক লাগবে।
সিলেট শহর থেকে লালাখাল যেতে দেড় ঘণ্টার মত সময় লাগে। এর কারণ মূলত জৈন্তাপুর বাজার থেকে লালাখালে যাওয়ার সরু রাস্তা। আমরা শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করেছিলাম সারাদিনের জন্য। খরচ পড়েছে গ্যাসসহ ৫০০০ টাকা।

গোলাপ গ্রাম Trip December 2017

গোলাপ বাগান, সাদুল্যাপুর, বিরুলিয়া, সাভার
ঢাকার অদূরে অবস্থিত। তুরাগ নদীর তীরে। ছোট্ট, সুনিবিড় এলাকা। সাথে শহুরে ছোঁয়া। একদিনের ট্রিপের জন্য পারফেক্ট হতে পারে। গোলাপ বাগানের পাশাপাশি শত বছরের পুরনো এক জমিদার বাড়িও দেখে আসতে পারেন চাইলে। ডিটেইলস নিচে -
#গোলাপ_বাগান
মিরপুর ১ নাম্বার দিয়াবাড়ি বটতলা চলে আসবেন। সাদুল্যাপুরের বোট ছাড়ার ঘাট কোনটা, কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে। পার হেড ২৫ টাকা করে ভাড়ায় ৪০-৫০ মিনিট তুরাগ নদী পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যাবেন সাদুল্যাপুর। ঘাটে নেমে ৮০ টাকা রিজার্ভ অটো নিয়ে ৫-৭ মিনিটে পৌঁছে যাবেন গোলাপ বাগানে।
রিকোয়েস্ট একটাই। ফুল ছিঁড়বেন না। আগারে বাগারে ফুল ছেড়ার জন্য ফুল চাষিরা এখন মানুষকে বাগানে ঢুকতে পর্যন্ত দিতে চায় না। তবে যদি ফুল কিনতে চান, তো ৩-১০ টাকা পর্যন্ত পার পিস দরে কিনতে পারেন যত ইচ্ছে তত।
#জমিদার_বাড়ি
গোলাপ বাগান দেখে নিয়ে অটো, রিকশা অথবা লেগুনা করে চলে আসুন বিরুলিয়া ছোট ব্রিজের মুখে। ব্রিজের নিচে ঢাল ধরে গ্রামের পথে ঢুকে পড়বেন। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে সাগর মাস্টারের জমিদার বাড়ি দেখিয়ে দেবে। মূলত শত বছরের পুরনো এই বাড়িটি তৈরি করেন তারকনাথ সাহা নামে এক উঠতি জমিদার। তার নামেই ওই এলাকা এবং রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। তবে বাড়িতে ঢুকতে পারবেন না। আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। পুরনো এলাকা। আলাদা আবেদন আছে।
জমিদার বাড়ি দেখা শেষে ওই রাস্তা ধরে আরও একটু এগিয়ে গেলেই নৌকাঘাট দেখতে পাবেন। পার হেড ২ টাকা ভাড়ায় নদী পার হয়ে মেইন রোডে উঠে মিরপুর মাজার রোডগামী যেকোনো ট্রান্সপোর্টে উঠে পড়ুন। তারপর ফিরে যান যার যার বাসায়।
বিরুলিয়া বাজারে ক্যাফে আননূর বলে ভালো একটা হোটেল আছে। খাবারের মান বেশ ভালো। পার হেড ১৬০-১৭০ টাকা খরচে পেট ভরে খেতে পারবেন। স্পেশালি ভর্তাগুলো মাস্ট ট্রাই।
টোটাল ৪০০-৫০০ টাকা পার হেড বাজেট ধরলেই মনে করি এনাফ।
সো ঘুরে আসুন।
হ্যাপি ট্রাভেলিং 

সংগ্রামপুঞ্জি ঝরনা July 2017

জাফলং, সিলেট - ৮ জুলাই ২০১৭ দুপুর
- কিভাবে যাবেন?
জাফলং যাবেন প্রথমে। বিজিবি ক্যাম্পের পাশ থেকে বৈঠা নৌকা অথবা ইঞ্জিন নৌকা নিতে পারেন। রিজার্ভ নিলে ভাড়া চাইবে অন্তত ১৬০০ টাকা। এই টাকা এপার ওপার আসা যাওয়া, খাসিয়া পল্লী ও চা বাগান দেখে আসা - সবকিছুসহ। আর নরমালি পারাপার হতে চাইলে জন প্রতি ৩০ টাকা ভাড়া। ওদের একটা নিজস্ব সিন্ডিকেট করা আছে। আপনি কাউকে চিকনে ভুজং ভাজং দিয়ে নিতে চাইলেও পারবেন না। ওরা গ্যাঞ্জাম করবেই। তারচেয়ে দামদর করে যা কমাতে পারেন...
ওপারে গিয়ে বালু, ঝরনার গড়িয়ে আসা পানির ওপর দিয়ে মিনিট দশেক হাটতে হবে আপনাকে। তারপর একটু ডানে মোচড় নিয়ে ভাগ্য খারাপ হলে এমন একটা দৃশ্য দেখতে পারেন আপনি। আর ভাগ্য ভালো হলে তো কথাই নেই...

Chandpur Trip December 2017



চাঁদপুর ট্রিপ
ইলিশের বাড়ি হিসেবে বিখ্যাত জেলা চাঁদপুর বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বে চট্টগ্রাম ডিভিশনে অবস্থিত। ছোট্ট, শান্তিপ্রিয় এই জেলা শহরে ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ তে আমরা ৬ জন গিয়েছিলাম একদিনের ট্রিপে। তারই গল্প এবার শেয়ার করব আপনার সাথে।
#কিভাবে_যাবেন 
ঢাকা সদরঘাট থেকে সকাল সাড়ে ৬ টার পর থেকে অনেক লঞ্চ ছেড়ে যায় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে। যেকোনোটায় উঠে পড়লেই এনাফ। আমরা রওনা হয়েছিলাম বোগদাদিয়া ৭ লঞ্চে সকাল ৮.৩৫ এ। ডেক ভাড়া ১০০ টাকা। এছাড়াও সিটিং ব্যবস্থা আছে। ১৫০-২২০ টাকার মধ্যে সিটে বসে যেতে পারবেন। কেবিন ব্যবস্থাও আছে। সে ব্যাপারে তেমন কোন ইনফরমেশন জানাতে পারছি না বলে দুঃখিত। সময় লাগবে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। নদীর চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আরামে জার্নি করবেন।
ফেরার লঞ্চ পেয়ে যাবেন ২.৩০ টা থেকেই। আমরা ঢাকা ফেরার জন্য রওনা হয়েছিলাম সোনার তরী লঞ্চে বিকাল ৩.৪০ এ। ভাড়া একই। কিন্তু বিকেলের নদী এক অন্য লেভেলের মানসিক শান্তি দেবে আপনাকে। গ্যারান্টি দিলাম।
#কি_কি_দেখবেন_এবং_খাবেন 
লঞ্চ ঘাটে নেমে বাইরে অপেক্ষমান অটো নিয়ে চলে যাবেন বড় স্টেশন নামে একটা জায়গায়। ভাড়া নেবে পার হেড ১০ টাকা। চাইলে হেটে যেতে পারেন। ম্যাক্সিমাম ১০ মিনিট লাগবে। শান্ত, সুনিবিড়, মফঃস্বল পরিবেশ। ভালো লাগতে পারে আপনার।
#বড়_স্টেশন এ পৌঁছে দেখতে পাবেন "জেলা ব্রান্ডিং পর্যটন কেন্দ্র"। নির্মাণাধীন। খুব বেশি আশা করলে ভুল করবেন। আমাদের ঢাকা শহরের যেকোনো অতি সাধারণ পার্কের মত দেখতে। কিন্তু আকর্ষণীয় ব্যাপারটা হচ্ছে মেঘনা নদীর পাড়। বেশকিছু ঝালমুড়ির দোকান আছে। আলাওল নামে একজনের বানানো ঝালমুড়ি ট্রাই করতে পারেন। এক্সেপশোনাল টেস্ট। দাম ১০ টাকা। আর ঘুরে বেড়াতে পারেন মেঘনা নদীতে। বোট রিজার্ভ নিতে পারেন ঘণ্টাখানেকের জন্য।
বিভিন্ন লঞ্চ দুর্ঘটনার জন্য বিখ্যাত ও কুখ্যাত
#পদ্মা_মেঘনা_ডাকাতিয়া_নদীর_মোহনা সহ মোহনার পরেই নদীর বুকে জেগে ওঠা একটা বিশাল চর এলাকা ঘুরিয়ে আনবে আপনাকে। ভাড়া পড়বে ৪০০ - ৫০০ টাকা। এখন নদী শান্ত। সো বিখ্যাত এবং কুখ্যাত সেই মোহনার ওপরেই বোট দিয়ে অবস্থান করতে পারবেন আরামে। এরপর আবার ফিরে আসবেন পর্যটন কেন্দ্রের নৌকা ঘাটে। এবং বেরিয়ে আসবেন ওখান থেকে।
পর্যটন কেন্দ্র থেকে বের হলে খাবার হোটেল পাবেন। ইলিশ এখন বিক্রি করছে ১২০ টাকা প্রতি পিস হিসেবে। যদি নিজে ইলিশ কিনে হোটেলে রান্না করিয়ে খেতে চান তো যেতে হবে পর্যটন কেন্দ্র থেকে বেরিয়েই হাতের ডানে রেল স্টেশনের দিকে। রেল লাইনের পাড়ে মাছের আড়ত। কিনে নেবেন দামদর করে। আমরা কিনেছিলাম মোটামুটি বড় সাইজ একটা ইলিশ ৪৫০ টাকায়। এবং পিস করা হয়েছিলো ৬ টা। খাওয়া শেষ করে এবার বেরিয়ে পড়ুন। গন্তব্য ওয়ান মিনিট আইস্ক্রীম।
#ওয়ান_মিনিট_আইস্ক্রীম 
অটোতে করে ৫ টাকা পার হেড ভাড়া লাগবে কালীবাড়ি নামক একটা জায়গায় যেতে। সেখানে নেমে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে বিখ্যাত ওয়ান মিনিট আইস্ক্রীমের দোকানটা কোথায়। প্লাস্টিকের গ্লাসে করে খাবেন। দাম ৪০ টাকা। স্বাদ নিয়ে খুব বেশি এক্সাইটেড হওয়ার কিছু নেই আসলে। ছোটবেলার পাইপ আইস্ক্রীমের মত স্বাদ। ভালো লাগতেও পারে আপনার।
ব্যস। আর তেমন কিছু দেখার নেই। এবার হাল্কা ঘুর ঘুর করতে করতে চলে আসুন লঞ্চ ঘাটে। দেখেশুনে উঠে পড়ুন লঞ্চে। বিকেলটা নদীতে উপভোগ করতে করতে চলে আসুন ঢাকায়।
হ্যাপি ট্রাভেলিং 

Sajek Trip December 2017

সাজেক ভ্যালী, রাঙ্গামাটি।
মূলত রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও খাগড়াছড়ি জেলা দিয়ে সাজেকে ভ্রমণ করাটা বেশি ইজি। তাই এদিক্কার কথাই এই পোস্টে তুলে ধরার ট্রাই করবো।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে সাজেক। প্রকৃতিগতভাবে অসম্ভব সুন্দর সাজেকে এই সিজনে যাওয়াটা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করতে পারেন আসলে।
খাগড়াছড়িগামী যেকোনো বাসে উঠে পড়ুন। শান্তি, ঈগল, হানিফ, শ্যামলী, এস আলমসহ ভালো ভালো বেশ কিছু কোম্পানির এসি/নন এসি বাস এদিকে চলাচল করে। পান্থপথ, কমলাপুর, ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ কাউন্টার থেকে কিনে নিতে পারেন টিকেট। মূল্য ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে নন এসি।
খাগড়াছড়ি পৌঁছে চাইলে শহর থেকেই চান্দের গাড়ি নিয়ে সাজেক রওনা হতে পারেন আবার চাইলে দীঘিনালা থেকেও সাজেক রওনা হতে পারেন। দুই জায়গায় হাল্কা পার্থক্যে দুই রকমের ভাড়া গুণতে হবে আপনাকে।
তবে, যদি দীঘিনালা থেকে চান্দের গাড়িতে যেতে চান তো খাগড়াছড়ি শহর থেকে অটো নিয়ে প্রথমে যাবেন দীঘিনালার বাস স্ট্যান্ডে। তারপর হয় বাসে নয়ত মাহিন্দ্রাতে করে যেতে পারেন দীঘিনালা। ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে। তারপর দীঘিনালা থেকে আবার চান্দের গাড়িতে করে দুই আড়াই ঘণ্টায় সাজেক ভ্যালী।
মনে রাখবেন, খাগড়াছড়ি কিছুটা ওয়াইল্ড এলাকা। তাই পর্যটকদের জন্য আর্মি এস্করটের ব্যবস্থা আছে যাতে করে নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। সকাল ১০টা এবং দুপুর ৩টা, এই দুই সময়ের যেকোনো সময় এই এস্করট নিয়ে আপনাকে যেতে হবে সাজেকে।
ইজোর, সিস্টেম এবং ব্যাম্বুশুট - এই তিনটি রেস্টুরেন্ট খাগড়াছড়ির সবচেয়ে বিখ্যাত। যেকোনোটা ট্রাই করে দেখতে পারেন। খাবার খেয়ে হতাশ হবেন না আশা রাখি। এভারেজ প্রাইস। চাইলে মেনু কাস্টম করে নিতে পারেন।
সাজেকে কি খাবেন সেটা আপনার ওপর নির্ভর করে। এভারেজ মানের খাওয়াদাওয়া, সো খুব বেশি আশা করলে হতাশ হবেন আপনি। ট্র্যাডিশনাল খাবার টেস্ট করে দেখতে পারেন। ভালোই লাগবে।
অনেক অনেক কটেজ, রিসোর্ট, হোটেল তৈরি হয়ে গেছে সাজেকে। কিন্তু আগে থেকে বুকিং না থাকলে এই সিজনে থাকা নিয়ে বড় ধরণের ঝামেলায় পড়ে যেতে পারেন। তবে ছুটির দিনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় হয়ত আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে। পার্সোনাল রিকমেন্ডেশন হবে সাজেকের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত রিসোর্ট "রক প্যারাডাইস" এ থাকার জন্য।
টোটাল বাজেট পার হেড ৫ হাজার টাকা হলে ভালো ভাবেই ঘুরে আসতে পারবেন সাজেক।
সো, দেরি না করে ঘুরে আসুন।
হ্যাপি ট্রাভেলিং 

Kuakata Trip October 2017

দক্ষিণ পশ্চিমে বাংলাদেশের সাগরকন্যা বলা হয় কুয়াকাটাকে। ১৩ কিমির কিছু বেশি দৈর্ঘ্যের এই সৈকতে আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখনি। জানাচ্ছি ইন ডিটেইলস। যতটা পারা যায়। আজ অর্থাৎ ১ অক্টোবর সকালে ফিরেছি কুয়াকাটা থেকে। সো আপনাকে যা জানাবো, সেগুলো একদম লেটেস্ট ইনফো।
লঞ্চ অথবা বাস যেভাবে খুশি যেতে পারেন।
#লঞ্চে_গেলে ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা জনপ্রতি। কেবিনের ভাড়া ১২০০ টাকা। সন্ধ্যা ৬ টার দিক থেকে ছাড়া শুরু করে লঞ্চগুলো। আমরা গিয়েছিলাম সুন্দরবন ৯ এ। সার্ভিস মোটের ওপর ভালো। পৌঁছে যাবেন ভোরে ৫ টার মধ্যে। রাতে চাইলে লঞ্চেই খাওয়াদাওয়া সেরে ফেলতে পারেন। জনপ্রতি ১৫০ টাকা খরচ পড়বে খুব বেশি হলে। এমভি জামাল ৫, প্রিন্স আওলাদ নামেও আরও কিছু লঞ্চ আছে। সার্ভিস মোটের ওপর ভালো। লঞ্চ আপনাকে নামিয়ে দেবে পটুয়াখালীতে। নেমে অটো নিয়ে যেতে হবে কুয়াকাটার বাসস্ট্যান্ডে ভাড়া ১৫-২০ টাকা জনপ্রতি। সেখান থেকে সরাসরি কুয়াকাটার ডিরেক্ট বাসে যেতে পারেন। ভাড়া ১৪০ টাকা। পুরো বাস একদম লোড না হওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না। সিন্ডিকেট করা আছে। ওরা ব্যাপারগুলোকে এভাবেই কন্ট্রোল করে। ঢাকার লোকাল বাসগুলোর মত চেহারা। ডিরেক্ট বাসে ভাগ্য খারাপ হলে সময় লাগবে আড়াই ঘণ্টার বেশি।
আবার চাইলে সেখান থেকে কলাপাড়ার বাসে ওঠে কলাপাড়া ব্রিজের নিচে নেমে যেতে পারেন। ভাড়া ১০০ টাকা জনপ্রতি। সেখান থেকে মাহিন্দ্রা নিয়ে কুয়াকাটা যেতে পারেন। চারপাশের পরিবেশ সুন্দর। রাস্তা কিঞ্চিৎ ভাঙ্গা। ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা। এভাবে ভেঙ্গে গেলে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা। সবমিলিয়ে খরচ ১৫০ টাকা জনপ্রতি।
#ঢাকা_থেকে_সরাসরি_বাসে গেলে কুয়াকাটা এক্সপ্রেস, ঈগল পরিবহণ, হানিফ, সাকুরা, সুরভী, আবদুল্লাহ পরিবহণসহ বেশ কিছু বাস সার্ভিস আছে। ভাড়া জনপ্রতি ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০ টাকার মধ্যে। মাওয়া, পাটুরিয়া দুই দিকের বাসই আছে। ভাড়াও নির্ভর করে এই দুই সাইডের ওপর। স্পীডে টানতে অভ্যস্ত এই বাসগুলো। কিছুটা রেকলেস। সিট নর্মালি ভালোই। নামিয়ে দেবে একদম কুয়াকাটা বিচের একটু আগে চার রাস্তার মোড়ে।
কুয়াকাটা ঢোকার মুখেই বনানী প্যালেস, পর্যটন হোটেল, সি কুইনসহ বেশ কিছু হোটেল দেখতে পাবেন রাস্তার দুই পাশেই। হোটেলভেদে ভাড়াও ওঠানামা করবে। এছাড়াও অনেক ছোটখাটো হোটেলও পাবেন যেগুলো খুব একটা সুন্দর না হলেও ২/১ দিন থাকার জন্য মোটের ওপর ভালো। ডাবল বেড রুম ভাড়া ২০০০ টাকা থেকে শুরু। দামদর করে নিতে পারবেন।
কুয়াকাটা মোড়ের বাইক স্ট্যান্ডের পাশের রাস্তায় বেশ কিছু হোটেল আছে। খাটি বাংলায় যাকে বলে ভাতের হোটেল, ছালাদিয়া হোটেল। কিন্তু খাবার ঝাক্কাস। প্রাইসও তুলনামূলক কম। বিভিন্ন রকম মাছ ও মাছের ভর্তা থেকে শুরু করে মাংস সবই পাবেন। হোটেলগুলো দেখতে ভালো না হলেও খাবার আসলেই ভালো। অন্তত একবার ট্রাই করতে রিকমেন্ড করব আমি। জনপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যেই ভরপেট খেয়ে নিতে পারবেন। পানির টেস্ট একটু অন্যরকম। টিউবওয়েলের পানি। আয়রন আছে। মিনারেল জেনারেল ওয়াটারও পাবেন। ডাব ট্রাই করা মাস্ট। ২৫-৩০ টাকা প্রতি পিস।
মুল আকর্ষণ হচ্ছে সি বিচ। বলে রাখছি বেশ নোংরা। শক্ত বালি। কিন্তু আবেদন একই রকম। মেইন বিচ থেকে একটু সাইডে সরে গেলে ভিড় একটু কম পাবেন। সিকিউরিটি মোটামুটি। পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ কম। বিচে নেমে হাতের ডানে ট্যুরিস্ট বোটে ঘুরে বেড়ানোর অফার সম্বলিত একটা ছোট্ট অফিস পাবেন। ভাড়া সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা। চার ঘণ্টার এই ট্রিপে লাল কাঁকড়ার চর, ফাতরার বনসহ কিছু জায়গা দেখাবে। আরও হাই প্রাইসে বেশি সময়ের ট্রিপও আছে। এছাড়াও মিছরি পাড়ার বুদ্ধ মন্দির দেখতে পারেন। ঝাউবন দেখতে পারেন। রাস্তাগুলো কিঞ্চিৎ ভাঙ্গা। কিন্তু পরিবেশ অসম্ভব সুন্দর। বাইকে ঘুরতে গেলে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর জন্য প্যাকেজ জনপ্রতি ৫০০ টাকা। এক বাইকে দুইজন। চাইলে বাইকে নর্মালি ঘুরতে পারেন। কিমি প্রতি ২০ টাকা জনপ্রতি। খুব বেশি জায়গা নেই ঘোরার। তবে বিচের দিকে যাওয়া পিচের রাস্তার শেষ পয়েন্টটা বেশি বেশি জোস। স্লাবের ওপর পা রেখে বসে থাকতে থাকতে কখন যে সময় পেরিয়ে যাবে, টেরও পাবেন না।
ঘুরে আসুন তাহলে 
Happy Travelling 

বিছানাকান্দি Trip July 2017



#কিভাবে_যাবেন? 

সিলেট - গোয়াইনঘাট - হাদারপাড়
আমরা লামাবাজার নামে একটা জায়গা থেকে বোট নিয়েছিলাম। শুরুর দিকে রাস্তা চরম ভাঙ্গা আর উঁচানিচা। কিন্তু সময়ক্রমে একটু ভালো রাস্তা দেখতে পাবেন। সবচেয়ে জোস লাগবে রাস্তার দু'পাশের গাছগাছালি আর বিশাল বড় বড় সব বিল। দমকা বাতাস, পরিবেশ আর সাউন্ডলেস অবস্থা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে যে শান্তির মা এখানেই থাকে। শুক্রবার এখানে একটা হাট বসে। এই হাট থেকে ইন্ডিয়ান বহুকিছু পাবেন। দামদর করে নেয়াটা মাস্ট। সন্ধ্যা ৬ টার পর ওই এলাকায় আর কাউকে থাকতে দেয়া হয়না। বিজিবি এই কথা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে। খাবারের দোকান থাকলেও এড়িয়ে যাওয়াটা বেটার।

Bhutan Trip May 2018 Via India

ভুটান। বজ্র ড্রাগনের দেশ। হিমালায়ান রেঞ্জে অবস্থিত ছোট্ট এই দেশটা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম পাহাড়ি এলাকাগুলোর মধ্যে একটি। একটি বিশেষ কারণে গত ৩০ এপ্রিল ইন্ডিয়া হয়ে ভুটানে যাওয়ার একটি সুযোগ পেয়েছিলাম আমি, যা কিনা অক্ষরে অক্ষরে লুফে নিয়েছি নিজের মতই... এবার একটু সেদিকে নজরসহ বর্ণনা করবো। কিঞ্চিত বড় হতে পারে এই গল্প, কিন্তু কিছু করার নেই 
ইন্ডিয়া ট্রানজিট ভিসা দরকার হবে প্রথমে। ভিসা এপ্লিকেশন ফর্ম সুন্দরভাবে এবং সঠিকভাবে পূরণ করে ভিসার জন্য সাবমিট করে দেবেন উইথ যাওয়া এবং আসার টিকেট। ট্রানজিট ভিসার জন্য সিরিয়াল কম। আপনার খুব বেশি সময় নষ্ট হবে না। পোর্ট দিতে পারেন চেংরাবান্ধা - জয়গাঁ। ট্রাভেল ট্যাক্স ঢাকা থেকে দিয়ে যাবেন, এতে করে বর্ডারে আপনার সময় বাঁচবে।
বুড়িমারী হয়ে চেংরাবান্ধা দিয়ে এন্ট্রি করে জয়গাঁ পৌঁছে এক্সিট করে ভুটানে ফুয়েন্টশোলিংয়ে এন্ট্রি করতে হবে এবং ভিসা নিতে হবে। অন এরাইভাল, সো নো প্রব্লেম। জাস্ট এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং হোটেল বুকিঙয়ের পেপার সাবমিট করতে হবে। ব্যস। হয়ে গেল!
আমরা গিয়েছিলাম পিঙ্কি পরিবহণ নামে একটি বাসে। নামটা পিকিউলিয়ার হলেও সার্ভিস বেশ ভালো। একদম নতুন এসি থ্রি সিটার বাস। ১১০০ টাকা ভাড়া পার হেড। বুড়িমারীতে ওদের কাউন্টারে ২৫০ টাকা পার হেড দিয়ে দিলে ওরা প্রসেসিঙয়ে হেল্প করবে আপনাকে। বাংলাদেশ সাইডে ২৫০ টাকা প্রতিজন এবং ইন্ডিয়া সাইডে ১০০ টাকা প্রতিজন। হ্যাসেল কম, সময় নষ্ট হবে কম। সাথে থাকা ডলার চাইলে চেংরাবান্ধা পোর্টে এক্সচেঞ্জ করে নিতে পারেন। রেট বেশ ভালোই থাকে।
আমরা লুংটেন ওয়াংডি নামে এক ভুটানি ট্রাভেল গাইড + ড্রাইভারের সাথে কন্টাক্ট করে নিয়েছিলাম। ও আমাদেরকে চেংরাবান্ধা পোর্ট থেকে রিসিভ করে জয়গাঁ হয়ে ভুটানে নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের সাথে পুরো ট্রিপে ছিল। এবং আবার ফেরার সময় জয়গাঁ হয়ে চেংরাবান্ধা পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল। প্রকৃত পেশাদার এবং আসলেই ভালো একজন মানুষ এই লুংটেন ওয়াংডি। গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করা একজন ভুটানি নাগরিকও সে। বাংলাদেশকে নিজের সেকেন্ড হোম বলে ও। চাইলে কন্টাক্ট করে রাখতে পারেন ওর সাথে। ও যদি আপনার সাথে থাকে তো আপনাকে বাকি আর কোন কিছুর চিন্তা করতে হবে না দ্যাটস ফর সিউর। ওর ফেসবুক আইডি লিঙ্ক - https://www.facebook.com/lungten.wangdi.77?ref=br_rs
থিম্পু রাজধানী শহর। ছোট্ট, ছিমছাম। পরিষ্কার। নিয়মতান্ত্রিক। জেব্রা ক্রসিং ছাড়া রাস্তা পার হওয়া যায় না। শান্ত একটা শহর। চারদিকে পাহাড় ঘেরা এই শহরে হেটে ঘুরে বেড়াতে পারেন।
বুদ্ধা স্পট। থিম্পুর কাছেই এক পাহাড়ের ঢালে বিশাল এক বুদ্ধ মূর্তি। দেখলে মনে হয় বুদ্ধ পুরো শহরকে তার নজরে রেখেছেন।
১২ শতাব্দীর এক প্রাচীন মন্দির। বাচ্চা জন্ম নেবার পর ভুটানিরা এই মন্দিরে বাচ্চাদেরকে নিয়ে আসেন আশীর্বাদের জন্য।
কিংস প্যালেস। পার্লামেন্ট হাউজের সাথেই লাগানো ছোট্ট একটা বাড়ি। ভুটানের রাজাকে ভুটানিরা এতটাই সম্মান করেন যে রাজার বাড়ির দিকে আঙ্গুলও তোলেন না।
দোচলা পাস। পুনাখার দিকে যাওয়ার পথে মেঘছোঁয়া এক মেমোরিয়াল। অসম্ভব সুন্দর একটা জায়গা।
পুনাখা। আরেক ছোট্ট শহর। র‍্যাফটিং করতে পারেন পুনাখা নদীতে। বোট প্রতি ৮ হাজার রুপি। এক বোটে ৮ জন উঠতে পারেন। তেমন রিস্কি না। জাস্ট সাহস এবং ওরা যেভাবে বলে সেভাবে কাজ করলে আপনার এঞ্জয় করা কেউ ঠেকাতে পারবে না।
সাস্পেনশন ব্রিজ, পুনাখা জং। অসম্ভব সুন্দর পরিবেশ। এবং পরিষ্কার।
পারোতে ভুটানের প্রধান আকর্ষণ টাইগার নেস্ট না দেখে আসাটা জাস্ট বোকামি। চাইলে পুরো রাস্তা ট্রেকিং করতে পারেন। আগের এক্সপেরিয়েন্স না থাকলে পুরো ট্রেকিং না করাটা বেটার। ঘোড়া নিতে পারেন হাফ ওয়ে পর্যন্ত। ৫০০ রুপি প্রতিজন। পুরো ট্রেকিংয়ে উঠতে সময় লাগবে ঘণ্টা তিনেক আর নামতে ঘণ্টা দুয়েক। টাইগার নেস্টের ভেতরে যেতে চাইলে ৫০০ রুপি করে টিকেট। মোবাইল, ক্যামেরা ভেতরে নিতে পারবেন না। লকার আছে, ওখানে রেখে যেতে হবে।
ফুয়েন্টশোলিং। বর্ডার এলাকা। পাশেই জয়গাঁর মত নোংরা একটা এলাকা। আর গেটের এইপারে ঝকঝকে, শান্ত, নিরিবিলি, নিয়মতান্ত্রিক একটা শহর। জাস্ট হেটে বেড়াতেও ভালো লাগবে এই অজানা অচেনা জায়গাটায়।
ভুটান বিশ্বের সবচেয়ে কম কার্বন এমিশন রেটওয়ালা দেশ। এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। তাই যেখানে সেখানে কাহিনী কাব্জাব করে নিজের পরিচয় দিয়ে আসবেন না। আইন কানুন মেনে চলবেন। কোথাও কোন অবস্থাতেই ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। ওরা বাংলাদেশীদের ভালোবাসে। ওদের সেই জায়গাটাকে রেস্পেক্ট করবেন।
এটা নির্ভর করে আপনার ট্রাভেল প্ল্যানের ওপর। আমাদের প্ল্যান ছিল প্রথমে থিম্পু, তারপর পুনাখা এবং পারো। এরমাঝে আমরা থিম্পুতে দুই রাত এবং পারোতে দুই রাত ছিলাম। পুনাখায় দিনে গিয়ে দিনেই ব্যাক করেছি। যে গাইডকে ঠিক করবেন, ওই আপনাকে হোটেল বুকিংয়ে হেল্প করবে। কিরকম হোটেলে থাকবেন সেটাও নির্ভর করে আপনার ওপর। আমরা থিম্পুতে ছিলাম দ্রোয়েলমা হোটেলে। থিম্পু ক্লক টাওয়ারের পাশেই। আর পারোতে ছিলাম শহর থেকে একটু দূরে টাউনভিউ রিসোর্টে।
ইন্ডিয়ান কিছু রেস্টুরেন্ট খুঁজে পাবেন প্রায় সব শহরেই। কিন্তু মনে রাখবেন, খাবারের দাম অনেক বেশি। কিছু কিছু প্লেসে অস্বাভাবিকভাবে বেশি। আলুর দম, আলু পরাটা, ভেজ থালি, চিকেন বিরিয়ানি, মোমো ট্রাই করতে পারেন। ওরা লবণ, ঝাল কম খায়। সো আপনি কেমন চাচ্ছেন সেটা বলে দেবেন।
আমাদের টোটাল বাজেট পড়েছে পার হেড প্রায় ২৫ হাজার। কারণ আমাদের সাথে সবসময় গাইড প্লাস গাড়ি, দুটোই ছিল।
ভুটানিরা একটু আরামপ্রিয়। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমায় এবং সকালে একটু দেরি করে ওঠে।
কোন কাজে ভুটানিদের তাড়া দেবেন না। এটা ওরা অসম্মান মনে করে।
ভালো ব্যবহার করবেন। ওরা ইন্ডিয়ানদের দেখতে পারে না জাস্ট বিকজ অভ বিহেভ।
পরিবেশ কোনভাবেই নোংরা করবেন না।