Saturday, June 23, 2018

হামহাম ঝরনা এবং লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট ট্রেকিং, জুন ২০১৮


হামহাম ঝরনা এবং লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট ট্রেকিং

প্রথমে আপনাকে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল। হানিফ, শ্যামলীসহ বেশ কিছু বাস এই রুটে চলাচল করে। সময় লাগবে ম্যাক্সিমাম ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা, যদি না আপনার জ্যাম ভাগ্য খারাপ হয়।

শহরে নেমে চাইলে আমাদের মত করে উঠতে পারেন হোটেল মহসিন প্লাজায়। ২৫০০ টাকা পার নাইট রেটে এখানে পেয়ে যাবেন এসি ডাবল বেড রুম। অনায়াসেই ৪ জন থাকা যায়।

খাওয়াদাওয়া করতে পারেন কুটুমবাড়ি, পাঁচভাই এবং পানসী হোটেলে। প্রাইস রিজোনেবল। তবে অবশ্যই হাতে একটু টাইম নিয়ে আসবেন এসব হোটেলে। কারণ ভিড় থাকে প্রচণ্ড।

লাউয়াছড়া ৫ টার মধ্যে বন্ধ। তাই সিএনজি নিয়ে চলে যেতে পারেন। দরদাম করে নেয়াটা বাঞ্ছনীয়। চাইলে ২০ টাকা টিকেটে জাস্ট মেইন গেট দিয়ে ঢুকে বিখ্যাত রেল লাইনটা ঘুরে চলে আসতে পারেন। অথবা, ২০০ টাকার টিকেটে গাইডসহ এক ঘণ্টা লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্টে ট্রেকিং করতে পারেন। আমরা ট্রেকিংটাই করেছিলাম। অস্থির এক্সপেরিয়েন্স। জোক আছে অনেক, আগেই বলে রাখছি। আর বনের মধ্যে যত চুপচাপ থাকবেন তত বনের গভীরতা অনুভব করবেন, সিম্পল। বন্যপ্রাণী আছে প্রচুর। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনি ওদের বিরক্ত না করলে ওরাও আপনাকে বিরক্ত করবে না।

হামহাম যেতে চাইলে একদম সকাল সকাল রওনা হবেন। কমলগঞ্জ নামে একটা জায়গায় যেতে হবে আপনাকে। জায়গাটা বেশ দূরে। প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের রাস্তা। চাম্পারাই চা বাগানের ভেতর দিয়ে কলাবনে পৌঁছাবেন। সিএনজি নিয়ে যেতে পারেন আবার জীপও নিতে পারেন। আপনার কম্ফরট। নাম এন্ট্রি করে, অতি সাধারণ হোটেলগুলোয় খাবারের অর্ডার করে তারপর শুরু করবেন ট্রেকিং। খাবারের অর্ডার না করলে আপনার লস। কারণ ওই এলাকায় আর কোন কিচ্ছু নেই।

ট্রেকিংয়ের ব্যাপার খুব সিম্পল। চাইলে লাঠি কিনে নিতে পারেন। মাত্র ৫ টাকা। গাইড নিতে পারেন ৩০০ টাকায়। পুরো ট্রেকিং শেষ করতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। টাফ এই ট্রেকিংয়ে হামহাম আপনার শারীরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। মনে রাখবেন, যদি নিজেকে ফিট মনে না করেন তো ডোন্ট ট্রাই দিস। প্রবল মানসিক জোর থাকলেই কেবল যেতে পারেন আপনি। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একটা পয়েন্টে এসে আমি ভেবেছিলাম যে কুইট করবো। কিন্তু আমার পার্টনারদের অসামান্য সাপোর্টে শেষপর্যন্ত হামহামে পৌছাই।
হামহামে যাওয়ার পথ মূলত দুটো। পাহাড়ি পথ এবং ঝিরি পথ। বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝিরিপথে কোথাও কোথাও পানির ঠাই পাওয়া যায় না বলে আমরা ওই পথ এড়িয়ে গেছি এবং বেছে নিয়েছি পাহাড়ি পথ। টোটাল প্রায় ৭ টা পাহাড় ক্রস করে এই পথে হামহাম ঝরনার একদম কাছাকাছি এক ঝিরিপথে নামতে পারবেন আপনি। কোথাও হাঁটু কোথাও বা কোমর পানি। পিছলা। সো সাবধানে।

হামহাম গহীন এলাকা। সো যাই কিছু নিয়ে যান সাথে করে, সাবধানে বহন করবেন।

এবং কোন অবস্থাতেই কোন এলাকা নোংরা করবেন না। ভিডিওকারী আরেফিন সোহাগ বেশ কিছু পলিথিনের ব্যাগ নিজের পকেটে করে নিয়ে এসে অন্যত্র ডাম্প করেছিল।

মাইন্ড ইট, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মত থাকতে না দিলে একদিন না একদিন তার প্রতিশোধের শিকার আমরা হবই হব।

Thursday, May 17, 2018

Marine Drive, Cox Bazar, April 2018

মেরিন ড্রাইভ, কক্সবাজার টু টেকনাফ - শাহ্‌পরীর দ্বীপ।
বলা হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা হচ্ছে এটা। সর্বমোট ৯৬ কিমি দীর্ঘ এই রাস্তায় ঘুরে আসতে সময় লাগতে পারে ৩ ঘণ্টার মত। গত ৩১ মার্চ ২০১৮ তে আমরা ছয় জন কক্সবাজার কলাতলির ৯৯ গেস্ট হাউজের নিচের প্যাসিফিক ট্যুরস অ্যান্ড লজিস্টিকসের মান্না ভাইয়ের এরেঞ্জমেন্টে ৭৫০০ টাকা খরচায় পুরো মেরিন ড্রাইভ চক্কর দিয়েছিলাম। শাহ্‌পরীর দ্বীপের দিকে রাস্তার কাজ চলছে। এখন চাইলে যাওয়া যাবে সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত... এই পুরো চক্করের স্নিকপিক ভিডিও করেছিলাম ফোনের ক্যামেরায়। তাই একটু ঝাপসা লাগতে পারে। শেকিনেসও আছে। আশা করি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

মেরিন ড্রাইভ ভিডিও!  

নারায়ণগঞ্জ Trip January 2018



ঢাকার খুব কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। তাই বলে একে তুচ্ছার্থে দেখার কিছু নেই। খুব বেশি আশা না করলে এই জেলাতেও দেখার আছে অনেক কিছু। ৫ জানুয়ারি আমরা ৫-৬ জন গিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জ ঘুরতে। এবার ছোট্ট ডিটেইলসে জানাবো আমাদের অভিজ্ঞতা – 
#কিভাবে_যাবেন
গুলিস্তান থেকে নারায়ণগঞ্জের বাস পেয়ে যাবেন। শীতল, বন্ধন, উৎসব, বোরাকসহ বেশ কিছু বাস এই রুটে যাতায়াত করে। শীতল এবং বোরাকের এসি সার্ভিস আছে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫৫ টাকা। এই বাসগুলো ডিরেক্ট এবং সিটিং। সময় লাগবে ৪০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মত। নামিয়ে দেবে একদম নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে।
#কি_খাবেন
সকালে গেলে বিখ্যাত বোস কেবিনের নাস্তাটা ট্রাই করতে পারেন। স্টেশন রোডে অবস্থিত। বাসস্ট্যান্ড থেকে যেতে সময় লাগবে মিনিট ৭-১০। বোস কেবিনের ডিমের অমলেট মামলেট বিখ্যাত। সো মাস্ট ট্রাই। সাথে খাশির ঝোল নিতে পারেন। সবমিলিয়ে ১২০-১৩০ টাকার মধ্যে ধুমধাম নাস্তা। সবজি ডালও আছে। চাইলে ওসবও ট্রাই করতে পারেন। 
ক্লাবের রাস্তায় অবস্থিত জগৎবন্ধুর মিষ্টি বিখ্যাত। কিন্তু সকাল সকাল না গেলে মিষ্টির শিরাও পাবেন না। গুঁড়ের চমচম ট্রাই করতে পারেন। দাম পড়বে কেজি প্রতি ৩৫০ টাকার মত। টাটকা, নরম এবং গরম। জাস্ট কোন কথা হবে না। 
মোগরাপাড়ার কলাপাতা রেস্টুরেন্টের কালাভুনা ট্রাই করতে পারেন দুপুরে। অস্থির। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ শহরের মাউরা হোটেলের কালাভুনা ট্রাই করতে পারেন। এটাও জোস।
#কি_দেখবেন
হাজীগঞ্জ দুর্গে যেতে পারেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে ১০ মিনিটের রাস্তা। মেইন্টেইন করা হয়না ঠিক মত। এই দুর্গ থেকে মুন্সিগঞ্জ এবং লালবাগ কেল্লায় আসা যাওয়ার সুড়ঙ্গ তৈরি করা ছিল। অবশ্য কালক্রমে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব।
নদী পার হয়ে যেতে পারেন শাব্দি। সরিষাসহ বিভিন্ন ফুলের ক্ষেতে পরিপূর্ণ একটা শান্তসুনিবিড় এলাকা। অটো রিজার্ভ নেবে ১০০ টাকা। রাস্তা ভালো। গাছগাছালি ভরা এলাকা।
শাব্দি থেকে যেতে পারেন মোগরাপাড়া হয়ে সোনারগাঁও। লোকশিল্প জাদুঘর দেখে পানাম নগরী হয়ে আবার ফিরতে পারেন ঢাকা। জাদুঘরের টিকেট জনপ্রতি ৩০ টাকা। পানাম নগরীতে টিকেট জনপ্রতি ১৫ টাকা। সোনারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে পানাম নগরী পর্যন্ত অটো ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা। জাদুঘর পর্যন্ত ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা। রিজার্ভ গেলে ৬০-১০০ টাকা।
রিকোয়েস্ট একটাই – কোন অবস্থাতেই জায়গাগুলো নোংরা করবেন না।
হ্যাপি ট্রাভেলিং

তেঁতুলিয়া - অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়া। শান্ত, সুনিবিড় ছোট্ট একটা জায়গা। কিন্তু অতিসাধারণ প্লাস অমায়িক মানুষজন আর সবুজ পরিবেশ এই উপজেলাকে দিয়েছে এক অন্য মাত্রা। গিয়েছিলাম ২৬ অক্টোবর ২০১৭ তে এবং ফিরেছি আজ ২৮ অক্টোবর ২০১৭ তে। এক্সপেরিএন্সের আলোকেই এবার ডিটেইলসঃ
#যাবেন_কিভাবে
এই রুটে নাবিল পরিবহণ সবচেয়ে বিখ্যাত। তবে শ্যামলী, হানিফসহ আরও অনেক ভালো ভালো সার্ভিস আছে। নাবিল পরিবহণ আপনাকে নামিয়ে দেবে পঞ্চগড়ে। সেখান থেকে লোকাল বাসে করে তেঁতুলিয়া যেতে পারবেন। আমরা শ্যামলীতে ডিরেক্ট তেঁতুলিয়া পৌঁছেছিলাম। নন এসি, এসি দুই ধরণের সার্ভিসই আছে। নন এসির ভাড়া ৫৫০-৬৫০-র মধ্যে এবং এসির ভাড়া ১২০০-র মধ্যে। ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টার মধ্যে রওনা দিলে সকালে ৬-৭ টার মধ্যে তেঁতুলিয়া পৌছাতে পারবেন। রাস্তায় বেশ জ্যাম পোহাতে হবে। যেতে আমাদের সময় লেগেছিল ১৩ ঘণ্টা, আসতে ১৫ ঘণ্টা। সো ভেবে চিন্তে রওনা হওয়াটা আপনার জন্য বেটার।
#থাকবেন_কোথায়
সরকারি ডাকবাংলো আছে। চাইলে থাকতে পারবেন। আগে থেকে পারমিশন দরকার হবে। এছাড়াও তেঁতুলিয়া বাজারেও থাকার মত এভারেজ মানের হোটেল পাবেন। শান্ত, নির্ঝঞ্ঝাট এলাকা। সো যেখানেই থাকুন না কেন, কোলাহল তেমন একটা টের পাবেন না।
#খাবেন_কি
বাজারে কয়েকটা হোটেল আছে। বেশ ভালো মানের খাবার পাবেন এগুলোতে। দামও কম। বিভিন্ন টাইপ ভর্তা থেকে শুরু করে মাংস, সবই পাবেন। তবে ট্রাই করতে পারেন টাটকা মালাই চা আর টাটকা সাদা মিষ্টি। মিষ্টিটা পাবেন সকালে ১০ টা পর্যন্ত আর রাতে ৯ টার পর। অস্থির স্বাদ। রসূনের চপ খেতে পারেন। অদ্ভুত জিনিস। টেস্ট ভালো।
#ঘুরবেন_কোথায়
ভ্যান বা অটো ভাড়া করতে পারেন সারাদিনের জন্য। আমরা অটো ভাড়া করেছিলাম ৬০০ টাকায়।
মহানন্দা নদীর পাড়ে সরকারি ডাকবাংলো থেকে সবচেয়ে ভালো ভাবে দেখতে পাবেন তেঁতুলিয়ার মেইন আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা। এছাড়াও বাংলা টির (চা) কারখানার এলাকা থেকেও পরিষ্কার ওয়েদারে দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা।
যেতে পারেন বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে। শুক্রবার বন্ধ থাকে বিজনেস কার্যক্রম। তখন একদম ফাঁকা এলাকা পাবেন।
মহানন্দা নদী দেখতে পারেন। একদম মৃতপ্রায় অবস্থা, কিন্তু নদী তো নদীই। এই নদীর সাথেই ইন্ডিয়া বাংলাদেশ বর্ডার। সো সাবধান।
তেঁতুলিয়া ঢোকার একদম মুখে রাস্তার পাশেই ইন্ডিয়ান বর্ডারে অবস্থিত চা বাগানটা দেখতে পারেন। চা বাগানটা ইন্ডিয়ান টেরিটরিতে। সো সাবধান।
কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট দেখতে পারেন। ঘুরতে চাইলে পারমিশন নিয়ে বিকাল ৫ টার মধ্যে যেতে হবে। বিশাল এলাকা। ডাহুক নদীর দুই পাড়ের বেশ কিছুটা এলাকা নিয়ে এই এস্টেটের অবস্থান। ঝুম সবুজাভ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন এখানেও। আর একদম নীরবতা হচ্ছে বোনাস। চাইলে কিনতে পারেন এদের নিজস্ব চা। মিনি মীনা বাজার বলে একটা সুন্দর দোকান আছে এই এস্টেটের এলাকাতেই। ওখানেই সব পাবেন।
আদতে আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগবে রাস্তাঘাট। অক্টোবরের হালকা ঠাণ্ডায়, কুয়াশাঘেরা, গাছগাছালিতে ভরপুর একটা ছোট্ট জনপদের সরু রাস্তাগুলোয় চলতে চলতে আর অতিসাধারণ মানুষগুলোর সাথে রাস্তার পাশের ছোট্ট দোকানগুলোতে আড্ডা দিতে দিতেই দেখবেন সময় কেটে যাবে অনেকটা।
তো এবার আর দেরি না করে ঘুরে আসুন 

পেয়ারা বাগান, বরিশাল Trip July 2017

ভাসমান পেয়ারা বাজার, ভিম্রুলি, ঝালকাঠি
কিভাবে যাবেন?
হয় বরিশাল নয়ত বানারীপাড়ার লঞ্চে উঠবেন।
আমরা গিয়েছিলাম সুন্দরবন ১০ এ বরিশাল। সে অভিজ্ঞতাই বলছি।
ডেক ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এসি ১০০০ টাকা, নন এসি ৯০০ টাকা, ডাবল কেবিন এসি ২০০০ টাকা, নন এসি ১৮০০ টাকা।
বরিশাল নেমে অটো/মাহিন্দ্রা ধরে চলে যাবেন বানারীপাড়া লঞ্চ ঘাট। বোট ভাড়া করবেন। চলে যাবেন ভিম্রুলি।
পেয়ারা কেনা না কেনা অবশ্য আপনার ওপর নির্ভর করে। আমরা এক নৌকা পেয়ারা কিনেছিলাম ১০০০ টাকায় এবং প্রায় সাড়ে ৪ মণ পেয়ারা ছিল তাতে।

লালাখাল Trip April 2016

যেতে পারেন লালাখাল
সব জায়গায় পানি একদম সেই টার্কিশ ব্লু কালার নেই। ঘোলা ও ব্লু কালার মিক্সড হয়ে গেছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও সেই ব্লু কালারই পাবেন। ছবিটায় দেখতে পাচ্ছেন সেই পানি।
সিলেট জৈন্তাপুর বাজার থেকে ডানের দিকে লালাখাল রোডে ঢুকে পড়বেন। মোটামুটি ২০ মিনিটের মত লাগবে ঘাটে পৌছতে। ইঞ্জিন নৌকা আছে। ভাড়া ওদের অনুযায়ী ফিক্সড ৭০০ টাকা প্রতি ঘণ্টা। দামদর করে নিতে হবে।
যে জায়গাটার ছবি দেখতে পাচ্ছেন, একে বলে সুপারি বাগান। ঘাট থেকে মিনিট দশেকের মত গেলে হাতের বাম দিকে। পানি টার্কিশ ব্লু কালার। ফোনে তোলা ছবি। তাই রেজলুশন খারাপ। সে জন্য দুঃখিত।
চাইলে লালাখাল হয়ে জাফলং, জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত যেতে পারেন। যেতে আসতে ঘণ্টা দুয়েকের মত লাগবে। খরচ ওই ঘণ্টা প্রতি যা দেয়া আছে...
সিলেট নন এসি বাস ভাড়া ৪৩০ টাকার মত।
যেতে হেভি জ্যামের মধ্যে না পড়লে ঘণ্টা পাঁচেক লাগবে।
সিলেট শহর থেকে লালাখাল যেতে দেড় ঘণ্টার মত সময় লাগে। এর কারণ মূলত জৈন্তাপুর বাজার থেকে লালাখালে যাওয়ার সরু রাস্তা। আমরা শহর থেকে গাড়ি ভাড়া করেছিলাম সারাদিনের জন্য। খরচ পড়েছে গ্যাসসহ ৫০০০ টাকা।

গোলাপ গ্রাম Trip December 2017

গোলাপ বাগান, সাদুল্যাপুর, বিরুলিয়া, সাভার
ঢাকার অদূরে অবস্থিত। তুরাগ নদীর তীরে। ছোট্ট, সুনিবিড় এলাকা। সাথে শহুরে ছোঁয়া। একদিনের ট্রিপের জন্য পারফেক্ট হতে পারে। গোলাপ বাগানের পাশাপাশি শত বছরের পুরনো এক জমিদার বাড়িও দেখে আসতে পারেন চাইলে। ডিটেইলস নিচে -
#গোলাপ_বাগান
মিরপুর ১ নাম্বার দিয়াবাড়ি বটতলা চলে আসবেন। সাদুল্যাপুরের বোট ছাড়ার ঘাট কোনটা, কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে। পার হেড ২৫ টাকা করে ভাড়ায় ৪০-৫০ মিনিট তুরাগ নদী পাড়ি দিয়ে পৌঁছে যাবেন সাদুল্যাপুর। ঘাটে নেমে ৮০ টাকা রিজার্ভ অটো নিয়ে ৫-৭ মিনিটে পৌঁছে যাবেন গোলাপ বাগানে।
রিকোয়েস্ট একটাই। ফুল ছিঁড়বেন না। আগারে বাগারে ফুল ছেড়ার জন্য ফুল চাষিরা এখন মানুষকে বাগানে ঢুকতে পর্যন্ত দিতে চায় না। তবে যদি ফুল কিনতে চান, তো ৩-১০ টাকা পর্যন্ত পার পিস দরে কিনতে পারেন যত ইচ্ছে তত।
#জমিদার_বাড়ি
গোলাপ বাগান দেখে নিয়ে অটো, রিকশা অথবা লেগুনা করে চলে আসুন বিরুলিয়া ছোট ব্রিজের মুখে। ব্রিজের নিচে ঢাল ধরে গ্রামের পথে ঢুকে পড়বেন। যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে সাগর মাস্টারের জমিদার বাড়ি দেখিয়ে দেবে। মূলত শত বছরের পুরনো এই বাড়িটি তৈরি করেন তারকনাথ সাহা নামে এক উঠতি জমিদার। তার নামেই ওই এলাকা এবং রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। তবে বাড়িতে ঢুকতে পারবেন না। আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। পুরনো এলাকা। আলাদা আবেদন আছে।
জমিদার বাড়ি দেখা শেষে ওই রাস্তা ধরে আরও একটু এগিয়ে গেলেই নৌকাঘাট দেখতে পাবেন। পার হেড ২ টাকা ভাড়ায় নদী পার হয়ে মেইন রোডে উঠে মিরপুর মাজার রোডগামী যেকোনো ট্রান্সপোর্টে উঠে পড়ুন। তারপর ফিরে যান যার যার বাসায়।
বিরুলিয়া বাজারে ক্যাফে আননূর বলে ভালো একটা হোটেল আছে। খাবারের মান বেশ ভালো। পার হেড ১৬০-১৭০ টাকা খরচে পেট ভরে খেতে পারবেন। স্পেশালি ভর্তাগুলো মাস্ট ট্রাই।
টোটাল ৪০০-৫০০ টাকা পার হেড বাজেট ধরলেই মনে করি এনাফ।
সো ঘুরে আসুন।
হ্যাপি ট্রাভেলিং