
হামহাম ঝরনা এবং লাউয়াছড়া রেইন
ফরেস্ট ট্রেকিং
প্রথমে আপনাকে যেতে হবে শ্রীমঙ্গল।
হানিফ, শ্যামলীসহ বেশ কিছু বাস এই রুটে চলাচল করে। সময় লাগবে ম্যাক্সিমাম ৪ থেকে ৫
ঘণ্টা, যদি না আপনার জ্যাম ভাগ্য খারাপ হয়।
শহরে নেমে চাইলে আমাদের মত করে
উঠতে পারেন হোটেল মহসিন প্লাজায়। ২৫০০ টাকা পার নাইট রেটে এখানে পেয়ে যাবেন এসি
ডাবল বেড রুম। অনায়াসেই ৪ জন থাকা যায়।
খাওয়াদাওয়া করতে পারেন কুটুমবাড়ি,
পাঁচভাই এবং পানসী হোটেলে। প্রাইস রিজোনেবল। তবে অবশ্যই হাতে একটু টাইম নিয়ে আসবেন
এসব হোটেলে। কারণ ভিড় থাকে প্রচণ্ড।
লাউয়াছড়া ৫ টার মধ্যে বন্ধ। তাই
সিএনজি নিয়ে চলে যেতে পারেন। দরদাম করে নেয়াটা বাঞ্ছনীয়। চাইলে ২০ টাকা টিকেটে
জাস্ট মেইন গেট দিয়ে ঢুকে বিখ্যাত রেল লাইনটা ঘুরে চলে আসতে পারেন। অথবা, ২০০
টাকার টিকেটে গাইডসহ এক ঘণ্টা লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্টে ট্রেকিং করতে পারেন। আমরা
ট্রেকিংটাই করেছিলাম। অস্থির এক্সপেরিয়েন্স। জোক আছে অনেক, আগেই বলে রাখছি। আর
বনের মধ্যে যত চুপচাপ থাকবেন তত বনের গভীরতা অনুভব করবেন, সিম্পল। বন্যপ্রাণী আছে
প্রচুর। ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আপনি ওদের বিরক্ত না করলে ওরাও আপনাকে বিরক্ত করবে
না।
হামহাম যেতে চাইলে একদম সকাল সকাল
রওনা হবেন। কমলগঞ্জ নামে একটা জায়গায় যেতে হবে আপনাকে। জায়গাটা বেশ দূরে। প্রায়
ঘণ্টা দেড়েকের রাস্তা। চাম্পারাই চা বাগানের ভেতর দিয়ে কলাবনে পৌঁছাবেন। সিএনজি নিয়ে
যেতে পারেন আবার জীপও নিতে পারেন। আপনার কম্ফরট। নাম এন্ট্রি করে, অতি সাধারণ
হোটেলগুলোয় খাবারের অর্ডার করে তারপর শুরু করবেন ট্রেকিং। খাবারের অর্ডার না করলে
আপনার লস। কারণ ওই এলাকায় আর কোন কিচ্ছু নেই।
ট্রেকিংয়ের ব্যাপার খুব সিম্পল।
চাইলে লাঠি কিনে নিতে পারেন। মাত্র ৫ টাকা। গাইড নিতে পারেন ৩০০ টাকায়। পুরো
ট্রেকিং শেষ করতে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা লেগে যেতে পারে। টাফ এই ট্রেকিংয়ে হামহাম আপনার
শারীরিক সক্ষমতার চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। মনে রাখবেন, যদি নিজেকে ফিট মনে না করেন
তো ডোন্ট ট্রাই দিস। প্রবল মানসিক জোর থাকলেই কেবল যেতে পারেন আপনি। নিজের বাস্তব
অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, একটা পয়েন্টে এসে আমি ভেবেছিলাম যে কুইট করবো। কিন্তু আমার
পার্টনারদের অসামান্য সাপোর্টে শেষপর্যন্ত হামহামে পৌছাই।
হামহামে যাওয়ার পথ মূলত দুটো।
পাহাড়ি পথ এবং ঝিরি পথ। বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝিরিপথে কোথাও কোথাও পানির
ঠাই পাওয়া যায় না বলে আমরা ওই পথ এড়িয়ে গেছি এবং বেছে নিয়েছি পাহাড়ি পথ। টোটাল
প্রায় ৭ টা পাহাড় ক্রস করে এই পথে হামহাম ঝরনার একদম কাছাকাছি এক ঝিরিপথে নামতে
পারবেন আপনি। কোথাও হাঁটু কোথাও বা কোমর পানি। পিছলা। সো সাবধানে।
হামহাম গহীন এলাকা। সো যাই কিছু
নিয়ে যান সাথে করে, সাবধানে বহন করবেন।
এবং কোন অবস্থাতেই কোন এলাকা নোংরা
করবেন না। ভিডিওকারী আরেফিন সোহাগ বেশ কিছু পলিথিনের ব্যাগ নিজের পকেটে করে নিয়ে
এসে অন্যত্র ডাম্প করেছিল।
মাইন্ড ইট, প্রকৃতিকে প্রকৃতির মত
থাকতে না দিলে একদিন না একদিন তার প্রতিশোধের শিকার আমরা হবই হব।